কলকাতা: ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু অনেকের। আশঙ্কাজনক আরও বেশ কয়েক জন। গোটা ঘটনায় চরম অব্যবস্থার অভিযোগ উঠছে। ঘটনার সময় পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পুজো কমিটির তরফে মাইকে যে ঘোষণা হচ্ছিল, প্রাইভেট সিকিওরিটি যে বাঁশি বাজায়, তাতেই দুর্ঘটনা ঘটে। ছোটাছুটি, হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হন মানুষজন। তবে গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। (Chorbagan Stampede Deaths)
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এবিপি আনন্দে মুখ খোলেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা সলিল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ঘটনা দেখিনি আমি। এমন ঘটনা শুনিওনি। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার কোনও পুরস্কারের দাবিদার ছিল। পুলিশ ফোর্সের ডেপ্লয়মেন্ট নিয়ে ব্রিফিং নেই। ট্রাফিক পুলিশ নিজেদের নেতামন্ত্রী সামলাতেই ৫০ শতাংশ খরচ হয়ে যায়। পুলিশের আধিকারিক, পুলিশ ফোর্স যাঁরা আছেন, জানেন চোরবাজারে ঢোকা এবং বেরনোর পথ সঙ্কীর্ণ। সারা শহর জুড়ে যানজট। সরকারের চরম ব্যর্থতা।” (Chorbagan Sarbojonin Stampede Deaths)
সলিল আরও বলেন, “১৭-১৮ জন পদপিষ্ট হয়েছেন। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করব, আর যেন না বাড়ে। কিন্তু বাড়ার আশঙ্কা বেশি। প্রশাসনের এই ব্যর্থতা অনিচ্ছাকৃত হত্যার সমান। আর কলকাতা পুলিশের যে চরম ব্যর্থতা, কোনও ব্রিফিং নেই পুলিশ অফিসারদের। ব্যারিকেড বা গার্ডরেল দিয়ে সঙ্কীর্ণ জায়গা আটকে দেওয়া হয়। ডেপ্লয়মেন্ট জানতে হবে যে, কোথায় আটকানো হবে মানুষকে, কোথায় ছাড়তে হবে। ঘটনার সময় যে অফিসার, ফোর্স ছিল, তাদের দায়িত্ব ফিক্সড আপ করতে হবে। ক’টা মিটিং করেছিল ওই কমিটির সঙ্গে? চরম ব্যর্থতা প্রশাসনের।”
চোরবাগানে সর্বজনীনের মণ্ডপে মৃত্যুমিছিল এই মুহূর্তে। পুজো দেখতে গিয়ে চোরবাগানে প্রাণ গেল ১৭জনের। পুজোর মধ্যেই শোকের ছায়া, ১৭জনের মৃত্যু। মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হয়ে আহত ২৫। মৃতদের মধ্যে ৭ বছর বয়সি এক শিশুও রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ১৭জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় নেবে কে? চরম গাফিলতির দায় কার? ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা? ব্যর্থতার দায় নেবে পুলিশ-প্রশাসন?
এদিন প্রত্য়ক্ষদর্শীরা জানান, চারিদিকে যখন হুড়োহুড়ি, ছুটোছুটি, পুলিশকে দেখাই যায়নি ঘটনাস্থলে। দমকল, অ্যাম্বুল্যান্সও ছিল না। অনেকে অ্যাপ ক্যাবে দেহ তোলেন। পরিস্থিতি দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষজনও। ঘটনার পর পুজোর আয়োজকদের কাউকে দেখা যায়নি প্য়ান্ডেল চত্বরে।
সবিস্তার আসছে