কলকাতা: পুজোর রাতে হঠাৎই বিপর্যয়। চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট বহু। পদপিষ্ট হয়ে আহত অনেকে। বেশ কয়েক জন মারা গিয়েছেন বলেও খবর। কমপক্ষে ২৫ জনকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে জুতো, ব্যাগ, জলের বোতল। দর্শনার্থীরা অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। (Chorbagan Durga Puja Stampede Situation)

শনিবার রাতে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই সময়ই হঠাৎ বৃষ্টি নামে। তাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়়ি পড়ে যা বলে খবর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঠাকুর দেখে প্রচুর সংখ্যক মানুষ যখন নীচে নামছিলেন, সেই সময় আরও বহু মানুষ প্যান্ডেলের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফলে বাইরে থেকে যেমন অনেকে বেরোতে পারেননি, তেমনই ভিতরে ঢোকার জন্যও ঠেলাঠেলি শুরু হয়। তাতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যান অনেকে। অন্যরা পা দিয়ে মাড়িয়ে যান তাঁদের। (Chorbagan Puja Stampede)

আরও পড়ুন: বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি ; চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু !

গোটা ঘটনায় অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীদের একাংশ। এক যুবক বলেন, “কেন ভিড় সামলানো হল না? কেন ছেড়ে দিল? পুলিশ কোথায় গেল? আমরা বডি নিয়ে যাচ্ছি। প্রাইভেট গাড়িতে। ওলা-উবর করে নিয়ে যাচ্ছি। অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ নেই।”

আরও পড়ুন: প্রিয়াগোল্ড বিস্কিটে ভুসি, ফুল ক্রিম দুধে ডিটারজেন্ট, কিশমিশে কীটনাশক, লাইসেন্স স্থগিত একাধিক সংস্থার

আর এক মহিলা বলেন, “প্যান্ডেলে পুলিশ নেই একটা। আমাদের ওদিকে গাড়ি বন্ধ। শুধু ভিআইপিদের জন্য…একটা অ্যাম্বুল্যান্স নেই। নেই কলকাতা পুলিশ। এলাকার মানুষ বের করছে। পুলিশ পালিয়ে গিয়েছে চোখের সামনে দিয়ে। এলাকার মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে গাড়িতে তুলেছেন। লাইনে ভিড় ছিল। ঘোষণা যিনি করছিলেন, ভুল ঘোষণা করেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে আরও ঝামেলা বাড়ানো হয়েছে। দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়।”

তৃতীয় একজন বলেন, “আমার সঙ্গে তিন বান্ধবী ছিল। বৃষ্টি হচ্ছিল বলে সামনে দাঁড়িয়েছিল অনেকে। হঠাৎ পিছন থেকে ধাক্কা আসে। অনেকে পড়ে যায়। পর পর পড়তে থাকেন সকলে। সামনের লোকজন উঠতে পারছিলেন না কিছু। আমার তিন বান্ধবী নীচে চাপা পড়ে যায়। আমার বান্ধবী সবচেয়ে নীচে ছিল। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট শ্বাস নিতে পারেনি। কত লোকজন অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। আমি টেনে বের করতে পারছিলাম না। সবাই হাত-ঘড়ি ধরে টানছিলেন। শেষে প্যান্ডেলের অংশ ভেঙে স্থানীয়রা বের করেন।”

পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় অনেককে। এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে খবর। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বহু মানুষের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসককে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পৌঁছচ্ছেন সেখানে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *