কলকাতা: তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে (Koel Mallick) প্রার্থী করা নিয়ে, সরব হলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায় (Tathagata Roy)। তৃণমূলের আমলে হেনস্থা হওয়া কর্মীরা এতে ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ উপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করলেন তথাগত রায়। যদিও এটা তথাগতর ব্যক্তিগত মত, বললেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার।
সুখেন্দুশেখর রায়। সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের পর, কোয়েল মল্লিক। রাজ্য়সভার আরেক পদত্য়াগী তৃণমূল সাংসদকে তাঁরই ছাড়া আসনে প্রার্থী করল বিজেপি। আর তা নিয়ে সরাসরি দলেরই সমালোচনায় সরব হলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায়।
সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগেই, রবিবার রাজ্য়সভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করে দেয় বিজেপি। সেদিনই তথাগত রায় X হ্যান্ডলে সতর্কবার্তা দিয়ে লেখেন, সুখেন্দুশেখর রায়, কোয়েল মল্লিক, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব, যাঁরা গতকাল পর্যন্ত তৃণমূলের ছিলেন, দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতাদের পরিবর্তে তাঁদের রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল সরকারের আমলে তৃণমূলী গুন্ডাদের হাতে ভয়াবহ হেনস্থার শিকার হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এনিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। এই ক্ষোভকে উপেক্ষা করা, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘তথাগত রায়, তাঁর সঙ্গে আমাদের ১৪ রকম নীতিগত মতপার্থক্য থাকে, কিন্তু তিনি পুরনো বিজেপি বা RSS হিসেবে তিনি তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। অনেকে কর্পোরেশনে নাকি একদম গ্যারান্টি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যে বিজেপির প্রার্থী করে দেওয়া হবে। এখন যদি আমাদের থেকে বেরিয়ে যায়, যাঁরা কাউন্সিলর ছিলেন। তাহলে বিজেপি কর্মীরা কী করবেন? বিজেপি কর্মীরা নিশ্চিতভাবে এই যন্ত্রণাটায় রয়েছেন।’
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দল ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। তার মধ্য়ে লোকসভায় তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসা ২০ জন সাংসদ NCPI-তে মিশে যান। সরাসরি NDA-কে সমর্থনের ঘোষণাও করেন তাঁরা। কখনও NDA-র মঙ্গল মিলন বৈঠকে, কখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রেকফাস্টে, কখনও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।
কিন্তু, NCPI সাংসদদের নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায়। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি বলেছিলেন, ‘তৃণমূলের মতাদর্শ একমাত্র ছিল টাকা পয়সা খাবলানোর। সে টাকা পয়সা খাবলানোর এখন সুযোগ চলে গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এখন NCPI-তে ঢুকেছেন, NCPI-তে ঢুকে বিজেপিতে ঢোকবার চেষ্টা করছেন। একেবারে নেহাতই স্বার্থে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে যতদিন এদের বাইরে রাখা যায়, ততই ভাল। ওরা NCPI-তে থেকে যা করছেন, সেটা তাঁদের ইচ্ছেয়।’
এরপর তৃণমূলত্যাগী তিন রাজ্য়সভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে সরাসরি বিজেপিতেই নেন খোদ রাজ্য় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য! এবার তৃণমূল ছেড়ে আসা কোয়েল মল্লিককেও দলে নিল বিজেপি। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে, এবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ও রাজ্য় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ট্যাগ করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তথাগত রায়।
যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, ‘তথাগত রায়ের ব্যক্তিগত মত।’ তথাগত রায়ের সতর্কবার্তায় কি রাজ্য় বিজেপি নেতৃত্ব আদৌ কান দেবে?