মুর্শিদাবাদ: হিংসায় উস্কানির অভিযোগে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে থানায় RPI. এদিন সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর বহরমপুর থানা থেকে বেরোলেন হুমায়ুন কবীর। বেরিয়েই এবার চাঞ্চল্যকর দাবি হুমায়ুনের।
বহরমপুর থানা থেকে বেরোলেন হুমায়ুন কবীর। বেশ কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বলেন, একটা টেলিফোন কল, গত ১৩ তারিখ রাত্রি ৯টা ২৬-২৭ মিনিটে, আমাকে একজন ব্যক্তি সরফারোজ চৌধুরী, এই নামটা আমার কাছে পরিচিত ছিল না। ওর নাম কাজল বলে জানতাম। আমার ফোনে তাঁর নাম সেভ করা আছে, ‘কাজল বহরমপুর’। ওর অ্যাকচুয়ালি বাড়ি শ্যামনগর অঞ্চলে।আমি ১২ তারিখে শক্তিপুর থানায় ১৭ ঘণ্টা, অনশন করেছিলাম বা অবস্থান করেছিলাম। ১২ তারিখ বেলা ৪ টে থেকে ১৩ তারিখ সকাল ৯টা। তারপরে, ৯ টার সময় শক্তিপুর থানা থেকে এসে, বাড়িতে স্নান খাওয়া করে একটু রেস্ট করে, সাড়ে তিনটের মধ্যে রেজিনগর চলে আসি। ..তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। ..তখন দেখছি এই কাজল, আমি যাকে কাজল বলে চিনি, মোটরবাইকে এসে আমার পার্টি অফিসের সামনে নামল। আমি বললাম কাজল, তুমি ভিজে ভিজে, কেন এলে ? আপনি অনশনে বসবেন, কালকে সারা রাত, তো আজকে আমরা আপনার পাশে থাকব, (সে জানাল)..আমি আর কী বলব, ..৪ বাজতে ১০ মিনিট আগে আমি পার্টি অফিস থেকে হেটে রওনা দিলাম। ও কিন্তু আমার সঙ্গে সঙ্গে গেল। আমি ৪ টে থেকে ৫ টা ৪৫ পর্যন্ত যখন থানার ভিতরে বসে ছিলাম, তখন প্রচন্ডভাবে বৃষ্টি আসে। বাইরে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার লোক ছিল, তাঁরা ভিজে যায়। প্রশাসনও যথেষ্ট ছিল। রেজিনগর থানার অফিসার সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী। যখন বৃষ্টি আসে, তখন তাঁরাও ঢুকে আসে।..আমার ইচ্ছেছিল, রেজিনগর থানায়, শক্তিপুর থানার মত সারারাত অবস্থান করব। আমার কর্মীরা ভিজে গিয়েছে, তার জন্য মোটামুটি ২ ঘণ্টার মধ্যে, থানা থেকে বড় বাবু বলে, যখন হেঁটে বের হচ্ছি, তখন দেখছি ওরাও আছে।…ওর একটা অভ্যাস আছে, যেখানেই আমার কাছে যায়, কীকরে আমার সঙ্গে ফটোতে আসবে, (সেই জন্য) আমার পাশে পাশে দাঁড়ায়।এটায় আমার ছেলেরও আপত্তি আছে ওর সঙ্গে ছবি তোলাতে। হুমায়ুনের সেক্রেটারিও তাঁকে ফোন করে সতর্ক করে দেয়। এরপর ওই ব্যক্তি অভিযোগও জানায় যে, আপনি আমাদের এমএলএ, আমি আপনার কাছে কেন যেতে পারবো না ? এরপরেই ঘটনায় মোড়।
হুমায়ুনের সংযোজন, ওইদিনকে চলে আসার পর, ঠিক আনুমানিক ৯টা ২৬ হবে আনুমানিক, ও হঠাৎ করে আমাকে একটা ফোন করছে। যে ফোন করেছে, আমি ফোনটা ধরে বলো কাজল বলেছি। ও আমাকে হঠাৎ করে বলছে, একটা প্ল্যান করেছে। বাবরি মসজিতের ওখানে সিসি ক্যামেরা অফ করতে হবে এবং ১০-১২ টা বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দিতে হবে।’ মূলত, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি, ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও। তার আগেই এই অডিও ক্লিপটি সামনে এনেছে পুলিশ। অডিও ক্লিপকাণ্ডে এবার থানায় হাজিরা দিতে বলে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নোটিস ধরায় পুলিশ। আর আজ সোমবার ডাকা হয় তাঁকে বহরমপুর থানায়।