কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: তৃণমূল দলের নাম ও প্রতীকের ওপর কার অধিকার? সেই ফয়সালা কি হয়ে যেতে পারে শনিবারই? কারণ, শনিবারই ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সঙ্গে বৈঠক করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সাধারণত এধরনের ঘটনায় কীসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? শুনে নেব।
আরও পড়ুন, “অভিষেক কি ফিরবে ?…যা খবর আছে”, বিস্ফোরক মদন মিত্র
ঘাসের ওপর জোড়া ফুলের এই প্রতীক কার? এনিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দড়ি টানাটানির, ফয়সালা কি তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে? ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার অবধি মনোনয়ন দেওয়া যাবে। আর শনিবারই ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক। তারপরই কি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে? তা কাদের পক্ষে যেতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে বালাসাহেব ঠাকরের তৈরি শিবসেনার ক্ষেত্রে, তাঁর ছেলে উদ্ধব ঠাকরে দলের নাম ও প্রতীক ব্য়বহারের অনুমতি পাননি।
নির্বাচন কমিশন সেই অনুমতি দিয়েছিল একনাথ শিন্ডেকে!। যাঁর দিকে অধিকাংশ বিধায়ক ছিল এবং এখনও আছে। আবার অনেকে এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিবসেনার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ সংক্রান্ত মামলাতেই সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য় বাগচী বলেছিলেন, পরিষদীয় বা সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শেষ অবধি প্রতীক যুদ্ধে কে জিতবেন? তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়? না কি বিধানসভায় এখন যাঁর সংখ্য়াগরিষ্ঠতা, সেই ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের গোষ্ঠী?
প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার বলেন, ‘লোগোর ব্য়াপারে কমিশন চূড়ান্ত। কোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে চায় না। লোগো দেওয়ার আগে দুপক্ষকে ডাকা এরকম হয়নি। এখানে কথা বলে নিতে চায়। দুটো বিষয় দেখা হয়। তিনটে সংস্থান থাকে। এক সংখ্য়াগরিষ্ঠতা কাদের দিকে। দুই, শিকড়ের কথা ভাবতে পারে। এটা কমই ভাবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম বিবাদের ক্ষেত্রে প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার সংস্থানও থাকে নির্বাচন কমিশনের হাতে। যেমন – রাম বিলাস পাসওয়ানের মৃত্যুর পর, তাঁর ছেলে চিরাগ, ভাই পশুপতি পারসের মধ্য়ে দলের মালিকানা নিয়ে লড়াই শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশন দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে দলের নাম বরাদ্দ করে রাম বিলাসের ভাইকে। তবে লোক জনশক্তি পার্টির মূল প্রতীক ‘বাংলো’ কোনও পক্ষকেই দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রাক্তন মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার বলেন, প্রতীক ফ্রিজ করে দিতে পারে এই সংক্রান্ত অংশ।অনেকে বলছেন, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিলেও, তাকে চ্য়ালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার রাস্তা খোলা থাকবে। যেমন – শিবসেনার দুই গোষ্ঠীর মধ্য়ে আইনি লড়াই এখনও চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রে কী হবে? শনিবারের বৈঠকে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে? কবে তারা সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে? সেটাই দেখার।