নয়া দিল্লি : জ্ঞানেশকাণ্ডে উত্তাল রাজধানী, দিল্লিতে আটক পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে আটক হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজপথে পুলিশের টহল! মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড! ড্রোনে নজরদারি, গাড়ি থামিয়ে নাকা চেকিং। রাজধানী দিল্লি যেন দুর্গ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি। যতক্ষণ না পদত্যাগ করছেন জ্ঞানেশ, ততক্ষণ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নিতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলীয় নেতারা ধর্নায় বসেন। সেখান থেকেই তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। তারপর তাঁদের থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রিজন ভ্যান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যন্তর – মন্তরে যেতে না-পেরে, বুকে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে , তাঁরা একটি বাসস্ট্যান্ডে বেঞ্চের উপর বসে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ‘Save India, Save Democracy’ লেখা ব্যানার। বুকে ব্যাজ লাগিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। কিন্তু সেখানেও তাঁদের বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এরপর তাঁদের গাড়িতে তোলে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁদের একটি প্রিজন ভ্যানে চাপিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এভাবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। বিজেপি যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে ‘। দেশের গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর কত দিন মানুষ মুখ বুজে এই পরিস্থিতি সহ্য করবেন?
এই বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন আরও ২ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী । পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর প্রতিবাদে চণ্ডীগড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে AAP । শ্রীনগর, চণ্ডীগড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস।
দিল্লিতে এই পুলিশি ধরপাকড়ের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘দিল্লির গায়ে জমায়েত করলে পুলিশ গ্রেফতার করে। আমাদেরকেও করত। অনেক সময় আমরা অনুমতি পেতাম না। অনুমতি না পেলেও আমরা আন্দোলন করতাম অনেক ক্ষেত্রে জনগণের কথা তুলে আনার জন্য়। এখানে জনগণের কথা কেউ বলছে না। এখানে একটাই বলছে পদত্য়াগ করতে হবে। কেন পদত্য়াগ করতে হবে, সেটার তাদের কাছে যুক্তি নেই।’
দিল্লি সীমানার সব প্রবেশপথে চলছে নজরদারি, তল্লাশি। সন্ধে পর্যন্ত বন্ধ মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন। বাতিল ৭৫টি ট্রেন। দিল্লির মতো বিক্ষোভ কলকাতাতেও, হাজরায় কংগ্রেসের মিছিল।