কলকাতা: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস। প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান। শত শত মৃত্যু। মৃত্যুপুরী হয়ে যাওয়া জনপদ। আবারও একবার উস্কে দিল সেই প্রসঙ্গ। বিপদে কি পশ্চিমবঙ্গও? কালিম্পং, দার্জিলিং পাহাড়েও কী নেমে আসতে পারে এমন ভয়াল দুর্যোগ ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা ? বিশেষজ্ঞদের দাবি, হিমালয়ের পূর্বাংশ মোটেই নিরাপদে নেই। ভূমিকম্প, পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়া, তুমুল বৃষ্টিপাত কিংবা হিমবাহে আচমকা ভাঙনের ঘটনায় পরোক্ষ ভাবে প্রাভাবিত হতে পারে এ রাজ্যের পাহাড়ি জেলাগুলিও। সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ ফেটে প্রবল জলপ্রলয়ের আশঙ্কা। যাকে ভূগোলের ভাষায় বলা হয়, Glacial Lake Outburst Flood (GLOF) । আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় হিন্দুকুশ হিমালয় (HKH) অঞ্চলের ৪০৭টি হিমবাহ হ্রদকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি যে কোনও সময় ফেটে বিপুল পরিমাণ জল নেমে এসে নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। জার্মানির বন-এর United Nations University Institute for Environment and Human Security (UNU-EHS)-এর গবেষকরা এমনই চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন একটি সমীক্ষার পর। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন হিমবাহ বিজ্ঞানী দীপেশ চাপাগাইন। কয়েক দশকে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে GLOF-এর ঝুঁকি কীভাবে বদলেছে, মূলত সেই বিষয়টিতেই নজর রেখেছে এই সমীক্ষা।
গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ১৯৫০ সালের পর থেকে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ঘটনা ক্রমশ বেড়েছে। গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, এক দশকে গড়ে GLOF-এর সংখ্যা যেখানে আগে ছিল প্রায় ৭টি, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮টি। তাই এই বিপদ আরও বাড়তে পারে যে কোনও সময়। কী এই GLOF? হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমা হয়। এই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ কোনও কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা আচমকা ভেঙে যেতে পারে। তখন কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বিপুল জল, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীর পথে নেমে আসে। তৈরি হয় ভয়াবহ হড়পা বান যার কারণ Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ঘটনায় বরফ, পাথর ও পাহাড় ভেঙে পড়ে লেন্দে খোলা নদীতে। এর জেরে দ্রুত গতিতে জলস্রোত নেমে আসে পাহাড়ি উপত্যকা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা US Geological Survey পরে জানায়, ভূকম্পন সংক্রান্ত যে সংকেত পাওয়া গিয়েছিল, তা আসলে হিমবাহের বরফ ও পাথর ভেঙে পড়ার অভিঘাত। ঠিক কী কারণে পাহাড়ের ঢাল ভেঙে পড়ে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা, একেকজন একেকরকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দার্জিলিং ও পূর্ব হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এ রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে ভূমিকম্প ও অতিবৃষ্টির পর ভূমিধসের আশঙ্কাও বেশি। তবে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে সিকিম। সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (SSMA) ভাইস চেয়ারম্যান ড. বিনোদ শর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যে এমন ৭টি হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বড় বিপদ হতে পারে।
গোটা সিকিমে মোট ৮৫টি হিমবাহকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৭টি হ্রদকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু হিমবাহ গলে জল জমা নয়, ভূমিকম্প বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই হ্রদগুলির বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা তৈরি হতে পারে।
Municipality Vote: পুরভোট পরিচালনার জন্য় বিজেপি যে কমিটি, তার ইনচার্জ সুকান্ত | ABP Ananda Live
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)