কলকাতা: কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে মুনলাইট হোটেলে দুষ্কৃতী হামলা, মারধর, ভাঙচুর। নীতি পুলিশির অভিযোগ। ৪০-৫০ জন এসে হোটেলে ঢুকে তাণ্ডব চালায়, কর্মী ও অতিথিদেরও মারধরও করা হয়, দাবি মালিকপক্ষের। ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে তদন্ত শুরু পুলিশের।
আজ বিকেলবেলা সাড়ে, তিনটে-চারটে নাগাদ বেলঘরিয়া ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি এই হোটেলে বেশ কয়েকজন মহিলাসহ একগুচ্ছ দুষ্কৃতি অতর্কিতে হোটেলে ঢুকে পড়েন। হোটেলের ঘরে ভাঙচুর এবং আবাসিকদের মারধর করে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে এবং তাতে দুষ্কৃতিদের হোটেলের ঘরের ভিতর ঢুকে মারধর, ভাঙচুর করতে দেখা যাচ্ছে।
মালিকপক্ষের অভিযোগ কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতি হোটেলের ম্যানেজারের কাছে এসে টাকা অর্থাৎ তোলার দাবি করছিল। হোটেলের মালিক উত্তরবঙ্গে রয়েছেন বলে তখন জানানো হয়েছিল। তারপর আজ অতর্কিতেই এসেই বেশ কয়েকজন টাকা চায় এবং তারপরেই হোটেল কর্মী থেকে আবাসিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে দমদম থানার পুলিশ আসে এবং এই হামলাকারীদের তিনজনকে আটক করে তদন্ত চলছে। কী কারণে হামলা সেই বিষয়ে পুলিশ সবটা খতিয়ে দেখবে। তা জানা গেলে সেই নিয়ে তদন্ত হবে। তবে মালিকপক্ষ কিন্তু তোলা চাওয়ার স্পষ্ট অভিযোগ আনছেন। যে কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:- ঝালদা বনাঞ্চলে হাতির দল দেখতে স্থানীয়দের ভিড়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বনকর্মীরা
লাঠি নিয়ে আসা দুষ্কৃতিদের তরফে দাবি করা হয় মুনলাইট হোটেলে অবৈধ কাজকর্ম চলছে। অবশ্য হোটেল কর্তৃপক্ষ এই দাবি অস্বীকার করে জানাচ্ছেন তাদের সরাই লাইসেন্স রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তারা গেস্টদের হোটেল ভাড়া দেয়। অভিযোগ দুষ্কৃতিরা এসে প্রথমে রেজিস্টার দেখতে চায়। হোটেল কর্মীরা বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং কর্তৃপক্ষের বাধা অগ্রাহ্য করে তারা বিভিন্ন তলায় উঠে এবং হোটেলের ঘরের দরজা ভাঙা হয়। মহিলাদের তো মারধর করা হয়ই, পুরুষদের রীতিমতো মারতে মারতে তিন তলা থেকে এক তলায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
হোটেল মালিকের ছেলে সৌনাভ মিত্র জানাচ্ছেন, ‘৫০-৬০ জন ছেলে এবং মহিলা মিলে আমাদের হোটেলের ভিতর ঢুকে যায়। বলছে এখানে নোংরা ব্যবসা হয়, অসভ্য়তামি হয়। বলে স্টাফদের গালাগালি করে, মারধর করে উপরে যায়। সেখানে গিয়ে গেস্টদের খাবার দাবার ফেলে, মারধর করে রক্ত বের করে দেয়, টেনে নীচে নিয়ে আসে। তলায় এক্সাইজ়ের অফ কাউন্টার, এক্সাইজ় না চাইলে আমরাও কাউন্টার বন্ধ করতে পারি না, ওটা বন্ধ করিয়ে দিয়েছে। থ্রেট দিচ্ছে, বলছে ব্যবসা করতে দেব না। সব ভেঙেচুরে, জ্বালিয়ে দেয় চলে যাব।’
আক্রান্ত হোটেলকর্মী স্বর্ণকমল ভোজ বলেন, ‘প্রথমে আমায় জিজ্ঞেস করা এখানে কারা আছে এবং ম্যানেজার কোথায়। তারপর আমাদের থাপ্পড় মারল, ফেলে দিল। প্রথমে এসেই ভাঙচুর আরম্ভ করে দেয়, কোনও কিছু না বলে। একজন গেস্টের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’