কলকাতা: মাথায় ঝুড়ি নিয়ে লরিতে পাথর বোঝাই করতেন। ছিলেন খুব সাধারণ শ্রমিক। তারপরই হঠাৎ একদিন টুলু মণ্ডল হয়ে উঠলেন ‘পাথরসম্রাট’! কিন্তু কীভাবে তাঁর এই উত্থান? তদন্ত হতেই একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির কারবার নিয়ে সরাসরি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও তাঁর সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার, বীরভূম সফরে গিয়ে ফের মুখ খুললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি জানালেন, বিজেপি সরকার ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এই সব দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। 

এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। তিনি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে। তবে ইতিমধ্যেই তাঁর প্রাসাদের মতো বাড়ি আত্মীয়ের বাড়িতে টাকা, গয়না, গাড়ির মেলা, বিরাট জায়গা নিয়ে পার্কিং, সবেরই হদিশ পেয়েছে পুলিশ। টাকা ও সোনা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত হদিশ মিলেছে ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তির। পরিবার ও কোম্পানির নামে মিলেছে ৪০০ বিঘারও বেশি জমির প্রমাণ। ‘পাথরসম্রাট’-এর এই দুর্নীতি প্রসঙ্গে শনিবার বড় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ”পুলিশের আরও শক্তি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব অনেক বাড়িয়েছেন। একটা বড় ক্র্যাকডাউন হয়েছে এখানে, ২২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একজনের কাছ থেকে। ২৫২ খানা গাড়ি সিজ হয়েছে। এটা রাজ্য পুলিশ চাইলে পারে, জেলা পুলিশ চাইলে পারে। এর জন্য ED-CBI লাগে না, CID-STF লাগে না। এটা বীরভূম জেলা পুলিশ প্রমাণ করেছে।” তিনি আরও বলেন যে, ”হাজার কোটি টাকা সাইফন হত। আপনি ৩ মাসে রাজস্ব আদায় যদি বলেন, ২৫৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যেটা গত বছর সারা বছরে ৮২ কোটি ছিল।” টুলু মণ্ডল কবে গ্রেফতার হবেন ? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন, ”সব হবে, সব হবে।”

আরও পড়ুন – টুলু মণ্ডলের ‘অঘোষিত পাথর সম্রাট’ হওয়ার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী ?

উল্লেখ্য, নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলুর মাথায় কাদের হাত ছিল? মানুষের মনে ওঠা এই প্রশ্নের উত্তর আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে নিশানা করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। এত বড় চক্র, এত দিন ধরে সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা তো পুরো রাজ্য় সরকার, যিনি লিড করেছেন, দায়িত্ব তাঁরও। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে নির্দেশ না গেলে, যেমন, মি. মণ্ডল আমাদের লোক, ওর দিকে তাকাবে না, তাই সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। ১৪ তলা যদি চোখ খুলে রাখে, ওইখান থেকে নির্দেশ যা যায়, নীচ পর্যন্ত তাই হয়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তখনই হয়, যখন প্রতিষ্ঠানের মাথা নিজে দুর্নীতিকে মদত করে, তখনই হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *