কলকাতা: ধনতেরস মানেই শুধু সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসন কেনাকাটা নয়। এই বিশেষ তিথিতে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোরও রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরসের সন্ধ্যায় বাড়ির কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রদীপ জ্বালালে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পেতে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এই বিশেষ দিনে দীপদান করার প্রথা রয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির পাঁচটি জায়গায় প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কোথায় কোথায় জ্বালাবেন প্রদীপ? জেনে নিন।
১. বাড়ির প্রধান দরজায় জ্বালান প্রদীপ
ধনতেরসের সন্ধ্যায় বাড়ির প্রধান দরজার দু’পাশে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। বাস্তুশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির প্রধান দরজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে করা হয়, এই পথ দিয়েই দেবী লক্ষ্মী গৃহে প্রবেশ করেন। তাই ধনতেরসের দিন প্রধান দরজা পরিষ্কার করে সেখানে প্রদীপ জ্বালানো শুভ। অনেকে দরজার দু’পাশে মাটির প্রদীপ রাখেন। বিশ্বাস, এর ফলে সংসারে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে এবং সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
২. তুলসী গাছের কাছে জ্বালান ঘিয়ের প্রদীপ
হিন্দুধর্মে তুলসী গাছকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। অনেক বাড়িতেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। ধনতেরসের দিনও সন্ধ্যায় তুলসী গাছের কাছে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তুলসী ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। তাই তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালালে পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং দেবী লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
৩. বাড়ির পুজোর ঘরে জ্বালান প্রদীপ
ধনতেরসে দেবী লক্ষ্মী, ভগবান ধন্বন্তরি এবং কুবেরের পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই দিনে বাড়ির পুজোর ঘরে প্রদীপ জ্বালানো উচিত। ঘি অথবা তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবদেবীর সামনে প্রার্থনা করতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজোর ঘরে প্রদীপ জ্বালালে সংসারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। আর্থিক সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলেও মনে করা হয়।
৪. বাড়ির দক্ষিণ দিকে জ্বালান যমদীপ
ধনতেরসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যমদীপ দান। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে যমরাজের উদ্দেশে একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। সাধারণত সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। এই প্রদীপকে যমদীপ বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, যমদীপ জ্বালালে পরিবারের সদস্যদের অকালমৃত্যুর ভয় দূর হয় এবং দীর্ঘায়ু কামনা করা যায়। তবে প্রদীপ রাখার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
৫. বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় জ্বালান প্রদীপ
ধনতেরসের সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা উঠোনেও প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। আগে বাড়ির প্রতিটি অন্ধকার কোণে প্রদীপ রাখার রীতি ছিল। বিশ্বাস করা হয়, প্রদীপের আলোয় ঘরের অন্ধকার দূর হওয়ার পাশাপাশি নেতিবাচক শক্তির প্রভাবও কমে। তাই বাড়ির যে জায়গাগুলিতে আলো পৌঁছয় না, সেখানেও নিরাপদভাবে প্রদীপ রাখা যেতে পারে। এর ফলে গোটা বাড়ি আলোয় সেজে ওঠে এবং উৎসবের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
ধনতেরসে প্রদীপ জ্বালানোর সময় কী কী মাথায় রাখবেন?
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর প্রদোষকালে প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়। প্রদীপ পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ভাঙা প্রদীপ ব্যবহার না করাই প্রচলিত রীতি। যমদীপের ক্ষেত্রে দক্ষিণ দিকের নিয়ম মেনে প্রদীপ জ্বালানো হয়। তবে বিভিন্ন অঞ্চল ও পরিবারে ধনতেরসের আচার-অনুষ্ঠানে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে ধনতেরসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আলো, আরাধনা ও সমৃদ্ধির কামনা। বাড়ির প্রধান দরজা, তুলসীতলা, পুজোর ঘর, দক্ষিণ দিক এবং ছাদ বা বারান্দায় প্রদীপ জ্বালানোর এই পাঁচটি রীতি বহু পরিবারে প্রচলিত। মনে রাখবেন, এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ, নিশ্চিত ফল পাওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নয়।
ডিসক্লেমার : কোনও রাশির জাতক বা জাতিকার ভাগ্যে কী রয়েছে সেই সংক্রান্ত কোনো মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ জ্যোতিষ সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।