কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, পশ্চিম মেদিনীপুর : সোমবার দলীয় কর্মীদের হাতেই হেনস্থা হতে হয়েছিল ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওমকে। সেদিনই ডেবরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তারপরে কেটে গেছে ৩ দিন। এখনও এই ঘটনায় দায়ের হয়নি FIR। এই নিয়ে এদিন কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি বিধায়ক। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা।
বিজেপির বিধায়ক, তোলাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিজেপির পদাধিকারীদের হাতেই মার খেয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর কেটে গেছে ৭২ ঘণ্টারও বেশি। তাঁর অভিযোগ, তারপরেও ব্যবস্থা নেওয়া তো দূর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় FIR-ও দায়ের করেনি পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওমের দাবি, সোমবার বিকেলে ডেবরা থানার সামনে দলের কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বিজেপির অপর গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের বচসা বেঁধে যায়। বিধায়কের সঙ্গীদের উপর চড়াও হন তাঁরা। বিজেপি বিধায়ক বাধা দিতে গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওমের কথায়, ‘প্রায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা কী আছে? কিছু নেই। ৪৮ ঘণ্টা আমি অপেক্ষা করে দেখি, কী করছে।’ পুলিশের উপর যে বিজেপি বিধায়ক একেবারেই প্রসন্ন নন, সেকথা স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম আরও বলেছেন, ‘পুলিশ একটা, পুলিশের একটা শ্রেণি কোনও না কোনওভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। তোলাবাজি, মদত আছে তো বটেই, নাহলে এতবড় ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন জিনিস যা আগেও চলত, এখনও লুকিয়ে চলছে কোথাও কোথাও। ফলে আমি চাই পুলিশ প্রশাসন এবং আমার রাজ্য নেতৃত্ব যেন সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে যে জন্য বিজেপিকে মানুষ এনেছে, যে আশা নিয়ে মানুষ বিজেপিকে এনেছে, সে আশার যেন যথোপযুক্ত তারা বিচার পায়। না হলে তো আমাদের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ হবে।’
এই ঘটনায় সেদিনই ডেবরা থানায় বিজেপির মণ্ডল সহ সভাপতি, বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, মণ্ডলের যুব সভাপতি-সহ ৬ জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ৩ দিনের বেশি সময় কেটে গেলেও, এখনও পর্যন্ত FIR টুকু করতে উঠতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার শিল্পনীতি ঘোষণার সময় তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু হলে একটা টোল ফ্রি নম্বর রয়েছে। দ্রুত অভিযোগ জানাবেন। ১৫ মিনিটের মধ্য়ে ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। মাত্র ১৫ মিনিট।’ ডেবরার বিজেপি বিধায়ক অবশ্য় শুক্রবারও পুলিশের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিজেপি বিধায়কের এই ক্ষোভকে বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি বিরোধীরা। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা ওনার (ডেবরার বিজেপি বিধায়ক) কমপ্লেন পেয়েছি এবং কমপ্লেনটার এনকোয়েরি চলছে।’