কলকাতা: দিল্লিতে একজোট হয়েছে বিরোধীরা। আসন্ন পুরভোটে বিজেপিকে আটকাতে কি পশ্চিমবঙ্গেও একজোট হতে পারেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও সিপিএম? এনিয়ে জল্পনার আবহে বিজেপি-বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। এনিয়ে ভিন্ন মত শোনা গেল বিরোধী দলগুলির মধ্যে। কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: ৫০ বছরেই অবসর নিতে চান অনেক মানুষ, কোন পথে আসবে সেই উপায়?
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলছেন, “আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয় বিজেপিকে হারাতে গেলে। সমস্ত শক্তিকে একত্রিত হতে হবে।” রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বিরোধীরা। হুড খোলা বাড়িতে সব নেতা-নেত্রীদের মধ্য়ে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও এম এ বেবি। একজন মমতা তৃণমূলের প্রধান। আরেকজন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
কিন্তু প্রশ্ন হল, পুরভোটে বিজেপিকে আটকাতে কি পশ্চিমবঙ্গে একজোট হতে পারেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও সিপিএম? এই আবহেই ইঙ্গিতপূর্ণ আহ্বান জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আজ আমি মনে করি, সবার ছোটখাট সমস্ত ইগোকে পরিত্যাগ করে যারা বিজেপি বিরোধী শক্তি এই বাংলায় আছে, যে কোনও পতাকা হোক, যে কোনও সমাজের, যে কোনও শ্রেণির মানুষ হোক, সবাইকে একত্রিতভাবে এই লড়াইয়ে তাদের একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে পুরসভায়।”
গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “শুধু তো দলের ঐক্য হলে হবে না, এই ধর্মভিত্তিক যে রাজনীতি বিজেপির, উগ্র দাঙ্গাবাজি, তার বিরুদ্ধে সমস্ত মানুষকে এক হতে হবে।” কিন্তু মূল প্রশ্ন হল, পুরভোটে কি সিপিএম ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ঐক্য়বদ্ধ হয়ে লড়বেন?
মমতা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দেশে একটা বিজেপি বিরোধী মঞ্চ তৈরি হয়েছে ‘INDIA’ জোট এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তি একত্রিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে যদি হারাতে হয়, তাহলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে লড়াইটা করতে হবে।”
সিপিএম নেতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “২০২৪-এর নির্বাচনের আগে ওরা মনে করলেন, আলাদা করে দাঁড়াবেন। কংগ্রেসকে তার মনোভাব স্পষ্ট করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আলাপ আলোচনার মধ্যে বসতে হবে। লড়বে যে যার নিজের পতাকায়, এটা ঠিক। খেয়াল রাখতে হবে বিজেপিকে প্রকারন্তরে সাহায্য করতে চায়, যে শক্তি তারা এবার এই সুযোগে এদিক ওদিক থেকে ঢুকে না পড়ে।”
ইতিমধ্য়েই রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের ঐক্য়বদ্ধ হওয়াকে বারবার নিশানা করছে বিজেপি। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আক্রমণ করে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত কংগ্রেস। এরা সব 4G, 3G, 2G পার্টি। মোদির কোনও জি নেই। 2G তো ছড়াছড়ি। পিসি আর ভাইপো।”
আর এখন যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিরোধীদের এক ছাতার তলায় আসার ডাক দিচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, তখন কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে সেই বিজেপিই। পুরমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “দেখুন আজ তারা জোট করতেই পারে। কিন্তু রাজনৈতিক তাদের যে হিপোক্রেসি, তাদের যে দ্বিচারিতা, সেটা তো বাংলার মানুষ, ভারতবর্ষের মানুষ বুঝেই গেছেন। তারা একজোট হতেই পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ বুঝে গেছে যে, আমার, আমার পরিবারের যদি ভাল কেউ করতে পারে, সেটা হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “রাজ্য়ের স্বার্থ এবং বিজেপিকে হারাবার যে কৌশল, সেই কৌশলের ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের দলীয় পতাকা ও সাদা পতাকা নিয়ে আমরা যদি পায়ে হাঁটি। সেখানে আর বিভেদ থাকল না। সাদা পতাকাটা এক প্রতীকী বিষয়।” শেষমেশ কী হয়। কে কার ডাকে সাড়া দেবে। কারা একসঙ্গে লড়বে। সবই স্পষ্ট হয়ে যাবে পুরভোটে।