পার্থপ্রতিম ঘোষ, অরিত্রিক ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা : পুজো মণ্ডপ কোনওভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। মণ্ডপে এন্ট্রি, এক্সিট গেট সহ কালীপুজোতে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ। চোরবাগানের ঘটনার পর রাজ্য় সরকারের এই গাইডলাইন, মেনে চলবেন বলেই জানান পুজো উদ্য়োক্তারা। সোমবার পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবে কলকাতা পুলিশ।
ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্য়ু ! চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত এখনও দগদগে। এই অবস্থায় সামনেই কালীপুজো ! ফের মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবেন হাজার হাজার দর্শনার্থী ! এই পরিস্থিতিতে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পদক্ষেপ করল প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়াতে রবিবার, স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশের তরফে জারি করা হল একগুচ্ছ নির্দেশিকা।
চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশের প্রকাশিত হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP-তে বলা হয়েছে, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর গেট আলাদা করে তা চিহ্নিত করতে হবে যাতে সহজেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে। ভিড় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ও সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকাতে ও বের করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকানো বন্ধ রাখতে হবে।
মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে, দুর্ঘটনার সময় ইমার্জেন্সি গেটে তালা, চোরবাগানের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এমনই নানা অভিযোগ উঠে আসে। এই অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশ, মণ্ডপ চত্বর কোনওভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। ইমার্জেন্সি এক্সিটের সামনে রাখা যাবে না কোনও বাধা। কোনওরকম বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।
ঘোষণার ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে যাতে কোনওভাবেই আতঙ্ক না ছড়ায়, তারজন্য মাইকে স্পষ্ট, শান্ত ও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে হবে। প্রত্যেক পুজো কমিটিকে একজন করে ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর রাখতে হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ও ড্রোন দিয়েও নজরদারি চলবে। বিদ্য়ুৎ বিপর্যয় হলে, সেটা সামাল দেওয়ার ব্য়বস্থাও রাখতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। সোমবার আলিপুরের ধনধান্য় স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে বসতে চলেছে কলকাতা পুলিশ।