কলকাতা: পুজো মণ্ডপ কোনওভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। মণ্ডপে এন্ট্রি, এক্সিট গেট সহ কালীপুজোতে (Kali Puja 2026) একাধিক নির্দেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। চোরবাগানের ঘটনার পর রাজ্য় সরকারের এই গাইডলাইন, মেনে চলবেন বলেই জানান পুজো উদ্য়োক্তারা। সোমবার পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবে কলকাতা পুলিশ।

সপ্তমীর সন্ধেতে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্য়ু! চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত এখনও দগদগে। এই অবস্থায় সামনেই কালীপুজো! ফের মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবেন হাজার হাজার দর্শনার্থী! এই পরিস্থিতিতে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পদক্ষেপ করল প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়াতে রবিবার, স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশের তরফে জারি করা হল একগুচ্ছ নির্দেশিকা। 

এই নির্দেশিকাকে পর সরকারে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তারাও। মৈনাক ক্লাবের উদ্যোক্তা সুমিত বারুই বলেন, ‘সরকারকে খুব সাধুবাদ জানাচ্ছি। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে, আমরা যারা কালীপুজোর উদ্য়োক্তা আছে। তারা আরও সজাগ বা জাগ্রত দৃষ্টি রাখছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এবার আমরা অতিরিক্ত ভলান্টিয়ার যোগ করছি রাস্তায়। ভেতরেও ভলান্টিয়ারস থাকবে, তারা একটা ধাপে ধাপে মোশানালি দর্শনার্থীদের মণ্ডপ দর্শন করে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্সিট গেট দিয়ে আমরা কোনও মানুষকে এন্ট্রি দেব না।’  

চোরবাগান ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশের প্রকাশিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP-তে বলা হয়েছে, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর গেট আলাদা করে তা চিহ্নিত করতে হবে যাতে সহজেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে। ভিড় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ও সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকাতে ও বের করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে ঢোকানো বন্ধ রাখতে হবে।  

আরও পড়ুন:- ‘আমরা তো CBI চাইনি… না পারে তো ছেড়ে দেবে’, RG Kar-কাণ্ডের তদন্তে ফের ক্ষোভপ্রকাশ অভয়ার মায়ের

মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে, দুর্ঘটনার সময় ইমার্জেন্সি গেটে তালা, চোরবাগানের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এমনই নানা অভিযোগ উঠে আসে। এই অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশ, মণ্ডপ চত্বর কোনওভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। ইমার্জেন্সি এক্সিটের সামনে রাখা যাবে না কোনও বাধা। কোনওরকম বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।

রসা শক্তি সেবক সংঘের প্রধান উপদেষ্টা উত্তম মণ্ডল জানান তারা গাইডলাইন অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। ‘গাইডলাইন অনুযায়ী, আমাদের আগে একটা এক্সিট ছিল এখানে, এখন ওটাকে আরও বড় করে দুটো এক্সিট করে দিয়েছি। যেহেতু অন্ধকারের জন্য় একটা ঘটনা ঘটেছে, ওই জন্য় আমরা এবারে লাইটটা বাড়িয়ে দেব।’ জানান তিনি।

ঘোষণার ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে যাতে কোনওভাবেই আতঙ্ক না ছড়ায়, তারজন্য মাইকে স্পষ্ট, শান্ত ও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে হবে। প্রত্য়েক পুজো কমিটিকে একজন করে ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর রাখতে হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ও ড্রোন দিয়েও নজরদারি চলবে। বিদ্য়ুৎ বিপর্যয় হলে, সেটা সামাল দেওয়ার ব্য়বস্থাও রাখতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। সোমবার আলিপুরের ধনধান্য় স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে বসতে চলেছে কলকাতা পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *