সমীরণ পাল, পানিহাটি: বিজয়া সম্মেলনীকে কেন্দ্র করে পানিহাটিতে শুরু হল নতুন তরজা। বিজেপি বিধায়ক, ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথের দাবি, নিমন্ত্রণ পেয়ে স্থানীয় এক ক্লাবে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি দেখেন ক্লাবের গেটে ঝুলছে তালা। সেই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ক্লাবের চাবি নিয়ে চলে আসেন তিনি। এদিকে এই ঘটনার পরই ক্লাবের সদস্য়দের একাংশের অভিযোগ, ক্লাব দখলের চেষ্টা করছেন বিধায়ক। (Ratna Debnath Club Controversy)

পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিধায়ক ও ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে সংঘাত প্রকাশ্যে এল। ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠছে রত্নার বিরুদ্ধে। রত্নার দাবি, শনিবার পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে একটি বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, ক্লাবের গেটে ঝুলছে তালা। সেই নিয়ে একপ্রস্থ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন,  “তালা দিয়ে মাঠের উন্নয়ন আটকানো যাবে না। আটকানো যাবে না আমাকেও। উন্নয়ন হবেই। কমিটি ছিল না বলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন সব ঠিকঠাক ভাবে হবে।” (BJP MLA ratna Debnath)

আরও পড়ুন: ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগ মালদায়, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রতিবাদে বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

এর পর রবিবার সকাল হতেই, স্বামী শেখর দেবনাথকে নিয়ে ফের একবার ক্লাবে পৌঁছে যান বিজেপি বিধায়ক রত্না। ক্লাবের গেটে লাগানো তালার চাবি নিয়ে নেন ক্লাবের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীর কাছ থেকে। ওই ক্লাবের কর্মচারী রবীন মণ্ডল বলেন, “দিদি চাবি নিয়ে গেল যে ‘চাবি দাও আমার কাছে’। কমিটি তো গন্ডগোল হয়ে…কমিটি তো হয়নি।” তবে রত্না বলেন, “কমিটি ছিল না বলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন সব ঠিকঠাক ভাবে হবে।” চাবি তাহলে DM-এর হাতে তুলে দেবেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, “হ্যাঁ, চাবিটা এই আমার হাতে।”

আরও পড়ুন: মেঘালয়েও দল ভাঙানোর রাজনীতি! ‘কিংমেকার’ UDP-র অস্তিত্ব এখন সঙ্কটে, দলে দলে বিজেপি-তে বিধায়করা

বিজেপি বিধায়কের এইভাবে চাবি নিয়ে যাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন ক্লাবের সদস্য়দের একাংশ। তাঁদের দাবি, ক্লাব দখলের চেষ্টা চলছে। পানিহাটি স্পোর্টং ক্লাবের সদস্য তপন দাস বলেন, “আমরা এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করব। এরকম চলতে পারে না। এ তো ক্লাব দখল করার মতো! ক্লাবের একটা কমিটি আছে। কোনও একজন সদস্য বা সেক্রেটারি পদত্যাগ করতেই পারে। দুমদাম করে চাবি নিয়ে যাওয়া…এটা প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা। আইন লঙ্ঘন করেছেন।”

পানিহাটি স্পোর্টং ক্লাবের আর এক সদস্য অরুণ রায়চৌধুরী বলেন, “বিধায়ক এলে তো একটা চিঠি দেয়, মাঠটাকে নেবে। চিঠি দেয়নি, কিছু দেয়নি আমরা কী করে জানব? সকালবেলা পাম্প চালাতে গিয়ে দেখি এসব ভাঙা। ওরাই করেছে, তাছাড়া কেউ করবে না।”

বিজেপি বিধায়ক রত্না যদিও দাবি করেছেন, ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন ক্লাব পরিচালনার। তাঁর বক্তব্য, “যিনি সম্পাদক, তিনি পদত্য়াগ করেছেন। তিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেখানে আমি কাকে জানাব?” কিন্তু তাঁর লোকজনই গিয়ে ভেঙে দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে? বিজেপি বিধায়ক বলেন, “কিচ্ছু করেনি ওরা। কিচ্ছু করেনি। সেক্রেটারি যখন আমার উপর দায়ভার দিয়েছে, যতক্ষণ না সংগঠন ওখানে তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ চাবিটা আমার কাছেই থাকা উচিত।”

স্থানীয় সূত্রে দাবি, রাজ্য়ে পালাবদলের পর ক্লাবের সম্পাদককে মারধর করা হয়। তার পরই সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক রাজর্ষি বল বলেন, “কিছু লোক হঠাৎ আমার কাছে আসে, ৪ তারিখের পরেই ব্য়াপারটা হয়। আমাকে বলে কেন বাড়িতে মেম্বারের ফর্ম দিয়ে আসা হয়নি। আমাকে মারধর করে ওখানে। তাদের বক্তব্য় ছিল মাঠের সমস্ত কিছু তাদের দিয়ে দিতে হবে।”

কয়েকদিন আগেই পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। সেই সময় বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী অভিযোগ তোলেন, তাঁর স্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর এবার বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠল ক্লাব দখলের অভিযোগ। এনিয়ে কটাক্ষ করেছেন মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এই ধরনের বিতর্কিত কাজে কী করে জড়ান উনি? অভয়ার মা, এটা কী করে হতে পারে? ভোট হয়ে গিয়েছে, একরকম রেজাল্ট বলে ক্লাব দখল হয়ে যাবে? দিকে দিকে হচ্ছে সেগুলো। তাতে যদি অভয়ার মায়ের নামও জড়ায়, তাহলে বুঝুন তিনি কতটা শোকে আছেন। আমার তাঁর প্রতি সহমর্মী।” সব মিলিয়ে তরজা তুঙ্গে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *