ঢাকা : ‘দিল্লি না ঢাকা ? ঢাকা, ঢাকা।’ ফের ঢাকার রাস্তায় উঠল ভারত-বিরোধী স্লোগান। ফের বাংলাদেশে আন্দোলনের ছবি। আর এবার আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিরুদ্ধে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং জ্বালানি ও গ্যাসের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার ঢাকায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম- যিনি ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিতচ ; এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন এবং স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
তবে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত যে সমাবেশে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল, তা কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, এনসিপি (NCP) নেতারা “দিল্লি না ঢাকা” স্লোগান দিচ্ছেন এবং সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ তার উত্তরে “ঢাকা, ঢাকা” বলে সাড়া দিচ্ছেন। নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপি তাদের সমাবেশে ভারতবিরোধী মনোভাব উস্কে দেওয়ার জন্য পরিচিত। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ভোটের আগেও এমনটা দেখা গিয়েছিল।
এই আন্দোলনে এনসিপি-র সাংসদ হাসনাত আবদুল্লাহও অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য)-কে মূল ভূখণ্ড থেকে “বিচ্ছিন্ন” করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভারতের রোষানলে পড়েছিলেন। নিজের বক্তব্যে নাহিদ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। ‘প্রথম আলো’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদ বলেন, “বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ভারতের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে পারবে না।” ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান, যার ফলে শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল, সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ নাহিদ সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, অসম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এছাড়া, দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেছেন যে, গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি যদি সুষ্ঠুভাবে পুনর্বিবেচনা করা না হয়, তবে বাংলাদেশের মানুষ আবারও রাস্তায় নেমে আসবে। নাহিদ বলেন, “এবার আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে এক চুলও ছাড় দেব না।” ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটি উভয় দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার উপর জোর দিয়েছেন। এই চুক্তিটি ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মরশুমে পশ্চিমবঙ্গের ফরাক্কা ব্যারেজে গঙ্গার জল বণ্টনের বিষয়টি নির্ধারণ করে।