কলকাতা : “অনেক শিল্পীর পেটের ভাত কেড়েছেন। অন্যায়ের ফল পেতেই হবে।” ইন্দ্রনীল সেনকে ঠিক এই ভাষাতেই নিশানা করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গানের এত ট্যালেন্ট এবং তার পাশে যে চুরির এত বড় ট্যালেন্ট থাকতে পারে, এটা ওঁকে দেখেই সবাই কল্পনা করতে পারবেন। পুরো চন্দননগরবাসী এবং তার পাশে সিঙ্গুর…বিভিন্ন জায়গায় লুঠপাট করেছেন এবং সম্পত্তি দখল করেছেন এবং নিজে বিলাসবহুল…উঁচু পাঁচিল দিয়ে মোহরকে পুরো ঘিরে রেখেছিলেন। তারমধ্যে কী হত, না হত চন্দননগরবাসী জানেন, হুগলিবাসী জানেন। আজ যা হয়েছে, ভালর জন্যই হয়েছে। অনেক শিল্পীর পেটের ভাত কেড়েছে। সুতরাং, পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না। মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের ফল পেতেই হবে।” 

প্রেক্ষাপট…

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। পুলিশের জালে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংস্কতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বৃহস্পতিবার আদালতে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এটা প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা। চুক্তি হয়েছে ২০২৫ সালে, টাকা উঠছে ২০২২ সাল থেকে। অভিযুক্ত ইন্দ্রনীল সেন সরাসরি এই প্রতারণায় জড়িত। ইন্দ্রনীল সেনের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

বাঙালির আবেগ দুর্গাপুজো। সেই প্রাণের উৎসবকে সামনে রেখে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। বুধবার সন্ধেয় নাটকীয়ভাবে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। আদালতে তদন্তকারী অফিসার দাবি করেন, ২০২১-২০২২ ‘মাস আর্ট’ নামে সংস্থা পুজোর টিকিট বিক্রি করে। যাঁদের বিক্রি করে, তাঁরা অনেকেই ঠাকুর দেখতে পাননি। যে টাকা উঠেছে তা অনেকের কাছেই গেছে। টেন্ডারেও অনেক গরমিল পাওয়া গেছে। তখন সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্য়ায় দাবি করেন, এটা প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা। ইউনেস্কো ২৪টি পুজোকে বেছে নেয়নি। সেটা ‘মাস আর্ট’ করেছে। চুক্তি হয়েছে ২০২৫ সালে, টাকা উঠছে ২০২২ সাল থেকে। এটা সম্পূর্ণ জালিয়াতির ঘটনা। অনেকেই পুজো প্য়ান্ডেলে ঢুকতে পারেননি। চুক্তি ছাড়াই টাকা তোলা হয়েছে। এক অভিযুক্তর থেকে আরেক অভিযুক্তের অ্যাকাউন্ট টাকা ঢুকেছে। 

কলকাতা হাইকোর্ট আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে। ৩ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে। 

বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য় দুপুর ২টো নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন ইন্দ্রনীল সেন। এরপরই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিকেল ৫টা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বেরোতেই নাটকীয়ভাবে কলকাতা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনকে। বৃহস্পতিবার আদালতে ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী সোমনাথ সান্যাল দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সব সময় তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন। আমার মক্কেল (ইন্দ্রনীল সেন) মাস আর্টের কোনও পদেই নেই। যিনি দেখতেন, তিনি ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী। তাঁকে জামিন দিয়েছে আদালত। টিকিটের বিক্রি আমার মক্কেলের (ইন্দ্রনীল সেন) বিষয় ছিলই না।  পেটিএমের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি হয়েছে। 

তখন সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন (ইন্দ্রনীল সেন) সমস্ত টেন্ডার ছেড়েছেন। কিছু জানি না বললে তো হবে না। 

ইন্দ্রনীল সেনের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক জয়দীপ ভট্টাচার্য। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *