সমীরণ পাল, দেগঙ্গা: বিদ্যাধরী নদী থেকে নৌকায় করে মাটি পাচারের সময় পুলিশের অভিযান। পুলিশকে দেখেই মাটি বোঝাই নৌকা ফেলে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার নূরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে মাটি বোঝাই একটি নৌকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বিজেপির বুথ সভাপতি শুভঙ্কর রায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের আমল থেকেই দিনের পর দিন গোবিন্দপুর এলাকায় বিদ্যাধরী নদী থেকে নৌকায় করে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। শুভঙ্কর রায় বলেন, নদী থেকে মাটি পাচার হতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। দেগঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই পাচারকারীরা নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়।
বিজেপির বুথ সভাপতির দাবি, বিদ্যাধরী নদীর দুই পাড় থেকেই যেভাবে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে, তাতে নদীর বাঁক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে এই মাটি পাচার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দেগঙ্গা তিন নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সনত দাস। সেখানে পুলিশ ও বিজেপি নেতৃত্বের তরফে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা নিজেরা ধরা না দিলে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব উড়ানে, ব্যাহত একাধিক শহরের উড়ান পরিষেবা, বাতিল হয়েছে কলকাতা থেকে একাধিক বিমান
অন্যদিকে, মাটি পাচারের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নৌকার মালিক গোবিন্দ পাত্র। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যাধরী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। অন্যদের মাটি কাটতে দেখে তিনিও একই কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। তবে এই কাজ যে অন্যায় হয়েছে, তা স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এভাবে মাটি পাচার করবেন না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন গোবিন্দ পাত্র। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনের নজরদারি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।