দুর্গাপুর: বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ তুললেন দলেরই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি। সটান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতরে চিঠি দিলেন তিনি। অভিযোগস বিধায়ক হওয়ার পরই লক্ষ্মণের সম্পত্তি একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে লক্ষ্মণ মেয়ে, জামাই এবং আত্মীয়দের চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। লক্ষ্মণ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। (Lakshman Ghorui Corruption Allegations)
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি-র প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “দুর্গাপুরের জনপ্রতিনিধি ভোটে জিতে চেয়ার পাওয়ার পর, চেয়ারটিকে অন্যায় ভাবে ব্যবহার করা শুরু করলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য আমাদের উপর ঝড় নেমে এল। চেয়ারটাকে ব্য়বহার করে তাঁর স্নতানদের চাকরি হল, কয়েকশো বিঘে জমি হল, আট-১০টি গাড়ি হল ঘরে। একটা এলাহি জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেলেন তিনি। দুর্গাপুরের সন্তান নয় যে, সে দুর্গাপুরে এসে শুধু লুঠ করছে, দুর্নীতি করছে। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি করেছিলাম।” (BJP Inner Tussle)
PMO-তে চিঠি লিখে সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান ধ্রুবজ্যোতি। তাঁর বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি রাজধর্ম পালন করেছেন। তাঁর দফতর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বলা হয়, চিঠি ডিওপিডি-তে অভিযোগ করতে বলা হয়। সেই মতো করি। সেখান থেকে আবার ভিজিল্যান্সে অভিযোগ জানাতে বলা হয়। ভিজিল্যান্স দফতরকে ধন্যবাদ। আমাদের অভিযোগ পেয়ে, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিধানসভার স্পিকারের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা চাইছি, দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই দুর্নীতিগ্রস্তের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে, আর্থি অনিয়মের তদন্ত করে জেলে ভরুক একে।”
ধ্রবজ্যোতির তোলা অভিযোগ যদিও অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, “একমাত্র উদ্দেশ্য আমাকে কালিমালিপ্ত করা। চক্রান্ত করে করানো হচ্ছে জানি আমি। আমার মেয়ে চাকরিই করে না। বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হচ্ছে। তদন্তের জন্য তৈরি আছি আমি। সম্পত্তি যদি এক গুণ বাড়ে, দল যা শাস্তি দেবে মাথা পেতে নেব। মনে হচ্ছে, আমার উত্থান দেখে ঈর্ষান্বিত ওরা। আমাকে আটকানোর জন্য, পরিকল্পনা মাফিক কিছু লোক ধ্রুবকে বোড়ে করে এসব করাচ্ছে।”