কলকাতা: মাইকে ঘোষণা করতে বলেছিল পুলিশই! ফেসবুকে, হাতে লেখা পোস্টে, চাঞ্চল্য়কর দাবি করেছেন, চোরবাগানকাণ্ডে ধৃত, দুর্গোৎসব সমিতির সদস্য, কুশল মজুমদার। আর এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদত্য়াগ দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। 

গোটা ঘটনায় এখনও শোকস্তব্ধ এলাকা। চোরবাগানের এক বাসিন্দা বলেছেন, ‘আমরা সবাই খুব দুঃখিত। খুবই মর্মান্তিক।’ আর এক বাসিন্দা বলছেন, ‘সেদিন পুলিশ থাকলে এরকমটা হত না’

সপ্তমীর সন্ধে। চোরবাগান সর্বজনীনে উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যেই আচমকা বৃষ্টি। তারপরই মাইকে এই ঘোষণা… প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা বেরিয়ে যান।

এই ঘোষণার জন্য় ইতিমধ্য়েই পুজোর সঙ্গে জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য়ে একজন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির সদস্য কুশল মজুমদার ওরফে বাবু মজুমদার। শুক্রবার, গ্রেফতারির আগে হাতে লেখা একটি বয়ান সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ধৃত কুশল মজুমদার।

সেখানে যে চাঞ্চল্য়কর দাবি করা হয়েছিল, তা হল দুর্ঘটনার সময় পুজো কমিটির এক সদস্য খবর দেন যে, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। তখন পুলিশ মাইকে ঘোষণা করতে বলে। চিঠিতে আরও লেখা ছিল, গিরিশ পার্ক থানার বড়বাবু এবং ছোটবাবু ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। কিছু পরে বাইরে আওয়াজ শুনে বড় বাবু-ছোট বাবু বেরিয়ে যান।

মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘চোরবাগান একটা জটিল রহস্য। গ্রেফতার করা ব্যক্তির বয়ান বদল। ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এটা কী হচ্ছে? ৯১ বছরের পুজো এটা। একের পর এক অসঙ্গতি আছে। এখন আবার নানা ভুয়ো কোম্পানির নাম পাওয়া যাচ্ছে।’

দুর্ঘটনার দিন, চোরবাগানের মণ্ডপে, মাইকে ঘোষণার ঘটনায় ইতিমধ্য়েই, গ্রেফতার করা হয়েছে পুজোর সঙ্গে জড়িত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে। এবং, চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির সদস্য কুশল মজুমদারকে।

সূত্রের খবর, ২ জনের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার মুহূর্তে ঠিক কী ঘোষণা করা হয়েছিল… মাইকে কী শোনা গিয়েছিল.. ঘটনার মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ফুটেজ। খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ফুটেজ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে মাইকে ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। সেই অডিও পরীক্ষা করে ঘোষণায় ঠিক কী বলা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। চোরবাগানকাণ্ডে ধৃত, কুশল মজুমদারকে শনিবার আদালতে তোলা হলে, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। 

কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘চোরবাগান কান্ডে আমরা সিপি অজয় নন্দর পদত্যাগ দাবি করছি। না হলে ওনাকে বরখাস্ত করা হোক। দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করি না। কিন্তু দখলদারির রাজনীতির কারণে যা ঘটে গেছে, কাদের সরিয়ে মাথায় বসল? পুলিশ কি করে পুজোর সর্তকতা না নিয়ে অনুমতি দিল? কেন ইন্সপেকশন করা হয়নি? এই পুলিশ কমিশনার থাকলে তদন্ত হতে পারে না।’

মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তদন্ত করছেন। যে তদন্তকারী দলে কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি। এর থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত কী হবে?’

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায়, এখনও পর্যন্ত ৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন আহতও। পাশাপাশি, ঘটনার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মী, হোমগার্ড, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *