কলকাতা: পুজোর মরশুম মিটলেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। তার আগে শাসক-বিরোধী দু’তরফেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। নতুন সরকারের ওপর মানুষের ভরসা আছে। ফলতা, নন্দীগ্রাম, রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলই তার প্রমাণ, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়ার মতো লোক নেই বিজেপির। কটাক্ষ করেছেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

আরও পড়ুন: কালীপুজোর আগে ফের বৃষ্টির ভ্রূকুটি, নভেম্বরে ফের আসছে বর্ষা?

কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার বলছেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের ওয়ার্ডে জিতুন আগে। তারপর নয় অন্য কোনও চিন্তাভাবনা করবেন।” উল্টোদিকে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, “সুকান্ত মজুমদারও নিজের ওয়ার্ডে একবার হেরেছিল। এঁদের কথার কোনও ভ্যালু আছে?”

পুজো মিটলে রাজ্যে শুরু হবে পুরভোট। ইতিমধ্যে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। পিছিয়ে নেই বিরোধীরাও। এই অবস্থায় ধীরে ধীরে চড়তে শুরু করেছে শাসক-বিরোধীর কথার লড়াই। ঝাঁঝ বাড়ছে আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণের। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন “মানুষের ভরসা আছে। সেটা আপনারা ফলতা, রেজিনগর, নন্দীগ্রামে পেয়েছেন। আগামীদিনে কলকাতা, হাওড়া কর্পোরেশন নির্বাচনেও দেখবেন মানুষ কার সঙ্গে আছেন।” মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, “ফ্লোর টেস্ট হলে এই বিজেপি সরকারের ৮০ ক্রস করবে না। যদি সিক্রেট ব্যালটে হয়।”

পুরভোটের রণকৌশল ঠিক করতে শনিবার শেষ হয়েছে বিজেপির দু’দিনের বৈঠক। পুরভোটে প্রার্থীপদে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগেই ড্রপ বক্স চালু করেছিল রাজ্যের শাসকদল। তাতে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার। 

কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার বলছেন, “আমরা এই যে ড্রপবক্স চালু করেছিলাম। সেই আবেদন নেওয়ার শেষ তারিখ আমরা ২৬ তারিখকে ধার্য করেছি। ২৬ তারিখের পর আমরা কোনও পদ্ধতিতে। ইমেল হোক বা ড্রপবক্স হোক, রাজ্যের ড্রপবক্স হোক বা জেলা সভাপতি বা অন্যান্য কারও কাছে হাতেও কেউ দিতে পারে, সেই বিষয়ে আর কোনও সুযোগ থাকবে না।”

মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, প্রত্যেকটা ব্লকে, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে ৬টা করে গ্রুপ। ফালতু ড্রপ বক্স ফেলছেন। আপনার প্রজেক্টটাই ড্রপড হবে। শেষপর্যন্ত এদিক-ওদিক থেকে নিয়ে কয়েকজনকে আপনাদের প্রার্থী করতে হবে।”

১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল। প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এই অবস্থায় কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের আবহে জল্পনা চলছে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে। কারা জায়গা পাবেন? কারা পাবেন না। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া কাউকে কি এবার বিজেপির হয়ে পুরভোটে দাঁড়াতে দেখা যেতে পারে? এমনই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে। 

বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মানুষ জামা বদলানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি।  আমরা একার শক্তিতে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সরকার গঠন করেছি। আমরা একার শক্তিতেই হাওড়া কর্পোরেশন এবং কলকাতা কর্পোরেশনে বোর্ড তৈরি করার ক্ষমতা রাখি। বিজেপি নিজের শক্তিতে, নিজের প্রতীকে যে ম্যাজিক ফিগার আছে, সেটা পার করে দেবে।”

মমতা তৃণমূলের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “২০৯ ওয়ার্ডে প্রার্থী দিতে বিজেপির লোক নেই। এক লিস্টে প্রার্থী তালিকা দিতে পারবেন না। ন’টা লিস্টে বেরোবে। শেষ দুটো ফাঁকা থাকবে গদ্দারদের জন্য।”

মাস ছয়েক আগেই রাজ্যে হয়ে গিয়েছে ছাব্বিশের মহারণ। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। এবার কি কলকাতার ছোট লালবাড়িতেও ক্ষমতার হাতবদল হবে? দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া হাওড়া পুরসভাতেও কি রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন? উত্তর মিলবে ভোটের ফল বেরনোর পরেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *