কলকাতা: নভেম্বরে হতে চলেকে পুর নির্বাচন। আর কলকাতার পুর নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে NCPI-এর জোট হবে কি না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা বারবার বলেছেন, তাঁরা জোট করতে চান। তারমধ্যেই, দ্বাদশীর সকালে বেলেঘাটার নানা জায়গায় একটি ফ্লেক্স ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। জোট নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সম্ভাবনার জল্পনা উস্কে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

আরও পড়ুন: দেশের মানুষকে খাবার ও জল মজুত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাইম মিনিস্টার বার্নহ্যাম, বড় কিছু কি ঘটতে চলেছে?

বিশাল ওই ফ্লেক্সে লেখা রয়েছে – শুভ বিজয়া, দীপাবলি, জগদ্ধাত্রী পুজো, ছটপুজোর শুভেচ্ছা। একপাশে প্রধানমন্ত্রী, আরেক পাশে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। মাঝখানের উপরের দিকে রয়েছে অমিত শাহ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও শমীক ভট্টাচার্যের ছবি। নীচে লেখা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্য়ালায়েন্স। তার তলায় ১৯ জন বিদ্রোহী তৃণমূল, অর্থাৎ NCPI সাংসদের ছবি। সঙ্গে লেখা, সৌজন্যে NCPI উত্তর কলকাতা। 

দ্বাদশীর সকালে বেলেঘাটার CIT মোড় থেকে বিল্ডিং মোড়ের নানা জায়গায় এই ফ্লেক্স ঘিরেই তোলপাড় পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কলকাতা পুরসভার ভোটের মুখে কে এই পোস্টার দিল? তাহলে কি পুরভোটে NCPI-এর সঙ্গে জোট করতে পারে বিজেপি? আসন ভাগাভাগি হতে পারে?  

কিছুক্ষণের মধ্যেই, আবার দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে কালি লেপে চোর লিখে দেওয়া হয়েছে। কালি লেপে দেওয়া হয় NCPI সাংসদ সায়নী ঘোষের ছবিতেও। এর মধ্যেই মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, সুদীপের হোর্ডিংএ সুদীপের মুখে কালি লেপে চোর লেখার নিন্দা করব কিনা ভাবছি। আর লাগালে বাকি গদ্দারগুলোকে বাদ কেন?

যদিও গত বিধানসভা নির্বাচনে বেলেঘাটার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী পার্থ চৌধুরীর অবশ্য বক্তব্য, “মনে হচ্ছে এটা শকুনি মামারই কাজ। অবশ্যই কুণাল ঘোষ।” এর পাল্টা দিয়েছেন কুণালও। তিনি বলেন, “এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস জড়িত নয়। বিজেপির যে অংশ মনে করে যে এই ধরনের লোকগুলো বিজেপির চারপাশে এলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজেপির ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে। তারা বাধা দিয়েছে। আর বিজেপির সঙ্গে আমাদের আদর্শগত বিরোধ আছে। কিন্তু যারা বিজেপির পরচুলা সুদীপের মুখে কালি মাখিয়েছে। তারা তাদের দলকে ভালবাসে বলে করেছেন।”

যদিও এই বিষয় নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, “বিষয়টি তিনি জানেন, তবে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।” এদিকে, কলকাতা পুরভোটে NCPI–র সঙ্গে বিজেপির জোট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা বারবার বলেছেন, তাঁরা জোট করতে চান। 

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আগে বলেছিলেন, “আমাদের আগ্রহ নির্বাচনটা একসঙ্গে হোক।” কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেছিলেন, “একসঙ্গে লড়লে অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। একসঙ্গে করলে সেটার যোগফলটা অনেক ভাল হবে।”

যদিও, কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদারের মুখে অবশ্য শোনা গিয়েছে অন্য রকম কথা। তিনি আগেও বলেছেন, “২০৯টি আসনে বিজেপি লড়াই করবে। সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কী বলেছেন, আমার জানা নেই। আমার রাজ্য় সভাপতি বা মুখ্য়মন্ত্রীর তরফে কোনও নির্দেশ আসেনি, কারও সঙ্গে আমাদের জোট নিয়ে কথা বলতে হবে।” আর আজ, শুক্রবার তাঁরই গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর।

আজ সুকান্ত মজুমদার বদতাল, “রাজনীতিতে কোনও ফিক্সড নিয়ম হয় না। যে এটা হলে ওটা হবে না। ওটা হলে ওটা হবে না। রাজনীতিতে সবসময় গেম অফ পারমুটেশন ও কম্বিনেশন।” তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলরকেই টিকিট দেওয়া হবে কি না সেটাও স্পষ্ট করে বলতে চাননি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট কথা, “যখন প্রার্থিপদ ঘোষণা হবে, সব দেখতে পাবেন।” উৎসবের মরশুমে শরিক NCPI-কে কি উপহার দেবে বিজেপি, না কি মুখ ফিরিয়ে নেবে? সেটাই এখন দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *