পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: পুজোর (Durga Puja 2026) ভিড়কে কাজে লাগিয়ে একের পর এক মণ্ডপে দর্শনার্থীদের সোনার গয়না, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বেসরকারি লজে অভিযান চালানো হয়। তাতেই আন্তঃরাজ্য চক্রের ১৩ জনকে গ্রেফতার করল বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা উভয়েই রয়েছেন। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া দুইটি সোনার হার উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পুজোর আগেই বাঁকুড়া শহরের ওই বেসরকারি লজে ঘাঁটি গেড়েছিল এই চক্রের সদস্যরা। পরিকল্পনা ছিল, পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া। সেই মতোই শহরের একাধিক বড় পুজো মণ্ডপে ঘুরে ঘুরে সোনার গয়না, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ ওঠে চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
পুজোর মধ্যেই বাঁকুড়া সদর থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ জানান দুই মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, বাঁকুড়ার নতুনচটি সর্বজনীন ও মধ্য কেন্দুয়াডিহি সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে গিয়ে তাঁদের গলায় থাকা সোনার হার খোয়া যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওই বেসরকারি লজে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ওই ১৩ জনকে।
আরও পড়ুন:- দুর্গাপুজোর চাঁদার জুলুম, ১৫ হাজার টাকা চেয়ে চাপ গ্যারেজ মালিককে, মারধরের অভিযোগ
ধৃত এই ১৩ জনের মধ্যে কারও বাড়ি উত্তরপ্রদেশ, কারও বা বিহার, কেউ আবার ঝাড়খণ্ড বা ওড়িশার বাসিন্দা। এই ১৩ ধৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলার বয়স ৬০ বছরের বেশি বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে অভিযোগকারীদের খোয়া যাওয়া দু’টি সোনার হার উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং বাঁকুড়া শহরের অন্য কোনও চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে এই ধৃতদের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুজোর মরশুমে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে এই চক্রের সক্রিয়তা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।