কলকাতা: দশমীতে ঘাট ভর্তি মানুষজন। বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে প্রতিমা। নামানো হচ্ছে, ঘোরানো হচ্ছে, গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। আর তারই মধ্যে নতুন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিজয়া দশমীতে বাবুঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্য়বস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্য়বস্থা খতিয়ে দেখতে যান মুখ্য়মন্ত্রী। আর তখনই তাঁর নির্দেশ, “যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমাকে হাত দেবেন।”

আরও পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, লিখবে মানুষ; ৩ কোটি টাকার বেশি মাইনে দিচ্ছে অ্যানথ্রোপিক!

তারপরই বিভিন্ন বিরোধী দল থেকে এসেছে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া। মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এতটা সংকীর্ণ কিন্তু হিন্দুধর্ম নয়, হিন্দুধর্ম উদার।” প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী বলেন, “রবীন্দ্র-নজরুলের বাংলায় এই ধরণের কথার অবতারণা হওয়া অত্য়ন্ত দুর্ভাগ্য়জনক, ন্যক্কারজনক।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটা তো একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব তো বটেই, কিন্তু সেটা সেকেন্ডারি। প্রাইমারি হচ্ছে, ধর্মীয় যে তার ঐতিহ্য়, সেটাকে ঠিকঠাক রাখা। এমনকী মাকে যাঁরা নিয়ে যাবেন, লোকজন, তাঁদের নাম-পরিচয়ও আমি CP-কে বলে গেলাম, চিহ্নিত করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমাকে হাত দেবেন। এটার মধ্য়ে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।”

মুখ্যমন্ত্রী কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই বললেও পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে বিরোধীরা। মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “আপনি কি ধর্ম দেখে দেখে, জাতপাত দেখে দেখে, দেখতে যাবেন, এ ছোঁবে, এ ছোঁবে না। শ্রীরামকৃষ্ণ এ কথা বলে যাননি। স্বামী বিবেকানন্দ এই হিন্দুত্ব দেখিয়ে যাননি। শ্রী চৈতন্য়দেব এই হিন্দুত্ব দেখিয়ে যাননি। সনাতনী সনাতনী করতে তো মৃত্য়ুর মিছিল দেখিয়েছেন। কোন সনাতনীতে লেখা আছে, পুজো কমিটি দখল করতে হবে?”

সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “আপনি আজকে বলছেন সনাতনীরা শুধুমাত্র ঠাকুরকে স্পর্শ করতে পারবে, মুসলমান কৃষকরা যে পদ্ম ফুল চাষ করেন, সেই পদ্মফুল বাদ দিয়ে সন্ধিপুজো হয় দুর্গোপুজোয়?পুজোর বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী, যেগুলো মুসলমান কারিগররা, জরি শিল্পীরা তৈরি করেন। যে কোনও উৎসবে সমস্ত ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করেন, সেটাই হওয়া উচিত একটা সুস্থ সমাজে।”

এর আগেই চোরবাগানের পুজোয় মৃত্য়ু নিয়ে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন। তিনি বলেন, “পুজোয় সাত্ত্বিকতা মেনে আমি বলব আগামী বছর থেকে পুজো হোক সম্পূর্ণ রূপে সনাতনীদের পুজো। এই থিমের চোখ রাঙানিতে বা এই থিমের দাপাদাপিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। মা দুর্গাকে নিয়ে, প্য়ান্ডেলকে নিয়ে এত পরীক্ষা করার চক্করে এত হইহুল্লোড়ের চক্করে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হল যেখানে এতগুলো মানুষ পদপিষ্ট হয়ে মারা গেল।”

কুণাল ঘোষ তখন বলেছিলেন, “কৌস্তভ বাগচী, কে বারণ করেছিল? ওই পুজোটা তো উদ্বোধন করেছেন আপনাদের মুখ্য়মন্ত্রী। ওই পুজো ৯১ বছর ধরে হয়ে আসছে, দুর্ঘটনা ঘটেনি। এবার আপনারা তার দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনাদের নেতারা, আপনাদের নেতার ঘনিষ্ঠরা, আপনাদের জেলা সভাপতি ওই পুজোর দায়িত্ব। ওই পুজোটা তো ৯১ বছরের পুজো। এতদিন তো হয়নি।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *