কলকাতা: যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙতে বুলডোজার, আজ হাইকোর্টে শুনানি। জরুরি ভিত্তিতে শুনানি চেয়ে হাইকোর্টে সিপিএম, আজ শুনানি। বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের এজলাসে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যকে জরিমানা করার নির্দেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
শনিবার যাদবপুরে বামেদের বুক স্টলে বুলডোজার, পুরসভার গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে হাজির হয়েছিল পুলিশ। এবার এনিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল সিপিএম। বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের এজলাসে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও বই ফেলে দেওয়া। কোথাও স্টল ভাঙচুর। আগুন। কোথাও বাধা দেওয়ার অভিযোগ। পুজোয় বামেদের বুক স্টল ঘিরে দিকে দিকে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে এবার যাদবপুরের ঘটনায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল সিপিএম। সিপিএমের সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি সুজন চক্রবর্তী বলেন, এরকম যে যাদবপুরে যে বুলডোজার আনা হয়েছে, আমরা তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলাম। শনিবার, চোরবাগানে যখন পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়, তখন সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে, বুকস্টল নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয় পুলিশের।
শনিবার, সন্ধেয় যাদবপুরের এইট-বি-তে সিপিএমের বুক স্টলে আসে পুলিশ। অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুরসভার গাড়ি এবং বুলডোজার।মানববন্ধন করে স্টল ঘিরে বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন দলের মহিলা কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয় সুজন চক্রবর্তীদের বিক্ষোভের মুখে ফিরে যায় পুলিশ। স্টল ভাঙতে কেন বুলডোজার আনা হয়েছিল? প্রশ্ন তুলে রবিবার, হাইকোর্টে মামলা দায়ের করল সিপিএম।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষ বলছে অনেক হল, এবার সরে যান। এদের দরকার নেই কিছু করার। কেন জোর করে সরিয়ে দেব? এটা ঠিক যে ওরা সব জায়গায় জবরদখল করে বড় বড় স্টল দিত। ৫ দিন ধরে বসে ওখানে ঝালমুড়ি আর ফুচকা খাওয়া হত, আর কিছু না। এই লালটা লোকে আর সহ্য় করতে চাইছে না। ওদেরও সাবধান হওয়া উচিত। রবিবার যাদবপুরে সিপিএমের স্টলে যান মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিমান বসুর বইও কেনেন।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূলকে বুকস্টলের বাঁশ পুঁততে দিচ্ছে না। টেবিল পাততে দিচ্ছে না। মমতাদির সৈনিকদের ‘জাগো বাংলা’ বিক্রি করতে দিচ্ছে না। সিপিএমকে আক্রমণ করছেন। সিপিএমের যারা স্টল করে ফেলেছেন, বুলডোজার নিয়ে ভাঙতে যাচ্ছেন। এগুলো তো কোনও অবস্থায় বরদাস্ত করা যায় না। এটা রাজনৈতিক সংকট নয়। এটা সভ্য়তার সংকটে পরিণত করেছে বিজেপি।