কলকাতা: চোরবাগানে দুর্গাপুজোয় বেনজির বিপর্যয়। পুজোর রোশনাইয়ের মধ্যেই, চিরতরে চলে গেল উনিশজনের জীবন প্রদীপ। আঁধার নামল পরিবারগুলিতে। চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর পর বারবার প্রশ্ন উঠছে, এই মৃত্যু মিছিলের দায় ঠিক কার ? উদ্য়োক্তারা কী করছিল? পুলিশ কী করছিল? আগে থেকে কেন পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করা হয়নি? নেপথ্য়ে কি বিশেষ রাজনৈতিক কারণ ছিল? অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ফেসবুকে লেখা হয়েছে, অনুমান করুন তো কে চোরাবাগান পুজো প্যান্ডেলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। এনিয়ে সুর চড়িয়েছে সিপিএমও। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। 

শনিবার ঘটনার পরপরই ফেসবুকে একটি পোস্ট করা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। দাবি করা হয়, অনুমান করুন তো কে চোরাবাগান পুজো প্যান্ডেলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। বিজেপির একজন বিধায়কও এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। কোথায় দায়বদ্ধতা? এই সমস্ত মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? মুখ্যমন্ত্রী, যাঁর বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই, তিনি কবে পদত্যাগ করবেন? এই নিয়ে এখন শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। সরকার ও বিরোধী শিবির একে অপরকে কটাক্ষ করতে পিছপা হচ্ছেন না।  

আরও পড়ুন – চোরবাগানের দুর্ঘটনার দায় কার? কেন কাঠগোড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া? পুলিশের ভূমিকা কী? মুখ খুললেন মৃতের আত্মীয়রা

মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ঘটনা নিয়ে বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করছেন, দেখতে পাচ্ছেন না, ওখানে কী হচ্ছে? তিনি সেদিন বারণ করেননি কেন? যাদের নাম কমিটিতে বড় বড় করে মাথায় আছে, যারা বড় বড় করে মাথায় আছেন, কমিটির লিস্টে। তাঁদের না ধরে কাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে?” অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, ”এই ঘটনা যেখানে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার, বিজেপির একের পর এক নেতা তারা জড়িত। এতজন মানুষের প্রাণ চলে গেল। সরকারের যদি লজ্জা থাকত এরপর, যদি লজ্জা বলে কোনও জিনিস থাকত, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্তত পুলিশকে যেখানে মোতায়েন করার সেখানে মোতায়েন করত।” 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারী এর সঙ্গে যুক্ত, এমনটা অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে পোস্ট করে। এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোকে নিয়ে বলেন, ”এধনের কোনও ঘটনা আমার জানা নেই। শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো, সে নাবালকই আছে আমি জানতাম। সাবালক হয়েছে কিনা আমি জানি না। আর সে তো থাকে কাঁথিতে। সে এখানে কোথা থেকে এল আমার জানা নেই।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *