কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে মৃত্যুমিছিল। চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় ২০ তারিখ পর্যন্ত ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, কুণাল ঘোষ অভিযোগ জানিয়েছেন যে কমিটির পুরো পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল চাপ দিয়ে। চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা গোটা বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ইস্যুকে নিয়ে রাজনীতি না করার আবেদন জানিয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তিনি বলছেন, ‘আপনি কি বিশ্বাস করেন যে কমিটির লোকেরা খুন করছে? তা তো নয়? রাজনীতি করার কি সময় এটা? এখানে ত্রুটি থাকতে পারে, অব্যবস্থা থাকতে পারে, কিন্তু এটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়। রাজনীতি হবে এটা নিয়ে। এটা আমি জানি, এটা সবাই জানে। অনেক কথা হবে। অনেক পুরনো ইতিহাস ঘাটা হবে। এটা সঠিক সময় নয়।’ 

কমিটির পুরনো সদস্যদের সরিয়ে হঠাৎ করেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তা নিয়ে সজল ঘোষ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কিন্তু যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে তো ওদের তো এখন ঠাকুরকে ধন্যবাদ জানানো উচিৎ।’

অপর্যাপ্ত পুলিশ কর্মীর অভাব! ছিল না ভলান্টিয়ারও। যেভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।সেজন্যই ঘটে যায় এত বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ গেল এতগুলো নিরীহ মানুষের। চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় এমনই অভিযোগ তুলছেন প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে আসা এক দর্শনার্থী তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলছেন, ‘পুলিশের কিন্তু বা ভলান্টিয়ার্সদের সেরকম অ্যাক্টিভিটি ছিল না। যেটা এর আগের বছর পর্যন্ত আমি দেখেছি, যেটা এবছরে কিন্তু আমার একদম চোখে পড়েনি। পুলিশ বা ভলান্টিয়ার তাদের কোনওরকম পারফরম্যান্স আমি দেখতে পাইনি। আমি তো পুলিশই দেখতে পাইনি।’

এক পরিবারের ৯ জন বেরিয়েছিল ঠাকুর দেখতে। তারমধ্য়ে কয়েকজন আরামবাগের। আর বাকিরা পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা। দক্ষিণেশ্বর থেকে মেট্রোয় ওঠেছিলেন তাঁরা। দিদি টগরি বেজ ও স্ত্রী পিয়ালি প্রামানিক ভাগ্নে সন্দীপ বেজ ও সন্তানকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন সনাতন প্রামানিক। গতকালের মর্মান্তিক ঘটনায় দিদি, ভাগ্নে ও স্ত্রীকে হারালেন তিনি। এছাড়া চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে, চোখের সামনে মাকে মারা যেতে দেখল ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে নিউটাউন থেকে ঠাকুর দেখতে এসেছিল মাধ্য়মিক পাস এক ছাত্রী। বাবা পেশায় রিক্সা চালক। তার মৃত্য়ুতে শোকার্ত পরিবার। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *