অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরে আসার পর জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে চাইছে পুলিশ ও বন দফতর। তারপরই রাজাভাতখাওয়ায় চালু হল কালচিনি থানার নতুন পুলিশ আউট পোস্ট। পর্যটকদের আনাগোনা, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই আউট পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন। বক্সায় বাঘ ফিরে আসার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজাভাতখাওয়ায় আউট পোস্টের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বিশাল লামা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ পুলিশের আইজি সুকেশ কুমার জৈন, জেলা শাসক ময়ুরি ভাসু, জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি প্রশান্ত কুমার চৌধুরী এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার ভিমল।
বক্সার জঙ্গলের মূল প্রবেশপথ হল রাজাভাতখাওয়া। জয়ন্তী ও বক্সা পাহাড়ও কালচিনি থানার আওতাভুক্ত। কিন্তু রাজাভাতখাওয়া থেকে কালচিনি থানার দূরত্ব জঙ্গলপথে প্রায় ১৪ কিলোমিটার। আর সেই কারণেই দুর্গম বক্সা পাহাড়ের ১১ টি গ্রাম, জয়ন্তী ও রাজাভাতখাওয়ার মতো এলাকায় কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কালচিনি থানা থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।
নতুন আউট-পোস্ট যে দিন চালু হল, সেই দিনই বোঝা গেল ওই আউট পোস্ট কতটা প্রয়োজন ছিল। বক্সা পাহাড়ের ২৮ মাইল বনবস্তির বাসিন্দা সঞ্জয় লামা এদিনই এই আউট পোস্টে একটি মিসিং ডায়েরি করেন। সঞ্জয় লামার এক আত্মীয়ের বেশ কিছুদিন ধরেই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আগে হলে তাঁকে দুর্গম এলাকা পেরিয়ে কালচিনি থানায় যেতে হত। নতুন আউট পোস্ট হওয়ায় সেই সমস্যা আর নেই। ফলে, যে কোনও পরিস্থিতিতে খবর পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই সুবিধাজনক হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: SRFTI – এর সামনে ফের উত্তেজনা, হাতে গেরুয়া পতাকা, ব্যারিকেড ভাঙল ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল জানান, বক্সায় পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন দফতর ও পুলিশের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজাভাতখাওয়া থেকে কালচিনি থানার দূরত্বের কারণে এই আউট পোস্ট পুলিশ ও বন দফতর—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।