কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বড় সঙ্কটে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার উপনির্বাচনের বাগান থেকেও মুছে গেল ‘জোড়াফুল’। জোড়াফুল প্রতীক ও নাম কার হাতে আসবে, অর্থাৎ ‘কালীঘাট-তৃণমূলের’হবে নাকি ‘ঋতব্রত-তৃণমূলের’ এই নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এবার সেটাও হাতছাড়া হল। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ বা ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ কোনওপক্ষই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্য়বহার করতে পারবে না। তবে এই প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করে দেওয়ার ঘটনা অতিতেও বহুবার হয়েছে। তৃণমূলের ক্ষেত্রে নতুন ঘটনা, এমনটা কিন্তু নয়। 

তৃণমূল কংগ্রেসের মত, অতীতেও বহু দলের মধ্য়ে এরকম বিবাদের ক্ষেত্রে একাধিকবার প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০২২ সালে উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডের মধ্য়ে যখন শিবসেনার নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই চলছে, ঠিক তখনই ‘আন্ধেরি ইস্ট’ বিধানসভায় উপনির্বাচন ঘোষণা হয়। তখন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা হিসেবে ভারতের নির্বাচন কমিশন শিবসেনা পার্টির নাম এবং তীর-ধনুক প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। পরবর্তীতে, একনাথ শিবিরকে দেওয়া হয় ‘দুই তরবারি এবং ঢাল’ প্রতীক এবং  উদ্ধব শিবির পায় ‘জ্বলন্ত মশাল’।

অন্যদিকে, আবার বিহারের ক্যাবিনেট মিনিস্টার ও লোক জনশক্তি পার্টির (Lok Janshakti Party) প্রেসিডেন্ট রাম বিলাস পাসওয়ানের মৃত্যুর পর, তাঁর ছেলে চিরাগ ও ভাই পশুপতি পারসের মধ্য়ে দলের মালিকানা নিয়ে লড়াই শুরু হয়। তখন নির্বাচন কমিশন দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে দলের ‘নাম’ বরাদ্দ করে রাম বিলাসের ভাইকে।  তবে লোক জনশক্তি পার্টির মূল প্রতীক ‘বাংলো’ কোনও পক্ষকেই দেয়নি নির্বাচন কমিশন। 

আরও পড়ুন – TMC’র নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’, উপনির্বাচনের ভবিষ্যৎ কী ? ভোটে লড়তে গেলে কী করতে হবে তৃণমূলের দুই শিবিরকে ?

একই ভাবে এবার এরাজ্য়ের জোড়া কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে, জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। ফলে দুই শিবিরকে নিজেদের জন্য় অন্য় প্রতীক ও নাম বেছে নিতে হবে। অতীতেও কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ভেঙে YSR কংগ্রেস তৈরি হয়েছে। শিবসেনা দু’টুকরো হয়ে শিবসেনা এবং শিবসেনা (UBT) তৈরি হয়েছে।  NCP দু’ভাগ হয়ে হয়েছে NCP এবং NCP (SP)। এবার তৃণমূলেও সেই একই পরিস্থিতি। 

কমিশন জানিয়েছে, দু পক্ষই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্য়বহার করতে পারবে না। কিন্তু চাইলে নতুন নামের সঙ্গে মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসের যোগসূত্র উল্লেখ করতে পারে। অর্থাৎ যেমন উদ্ধব ঠাকরে তাঁরা বাবা বাল ঠাকরের তৈরি শিবসেনার মালিকানা হারালেও, নতুন দলের নাম হয়েছে ‘শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)’। তেমনই শরদ পাওয়ার তাঁর ভাইপোর কাছে ‘NCP’-র মালিকানা হারিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু নতুন দলের নাম হয়েছে ‘NCP (শরদচন্দ্র পওয়ার)’। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল তৈরির সময় কংগ্রেস নামটি কিন্তু ছাড়েননি। নাম রেখেছিলেন ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। এবার ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর নতুন দলের নামের সঙ্গে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাম জড়িত থাকে কি না, কিংবা ঋতব্রত শিবিরের দলের নাম কী হয়, সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *