কলকাতা : দুই দিন পরেই বিশ্বকর্মা পুজো। আর তার পরেই কার্যত বেজে উঠবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঢাক। নআবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১৭ অথবা ১৮ সেপ্টেম্বর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত (Cyclonic Circulation) তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়াবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতার ফলেই শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এই সিস্টেমটি। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০-৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর  নিম্নচাপ তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় মোটামুটি ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। তাই বলাই যায়, আপাতত পরিস্থিতি ঘূর্ণাবর্ত তৈরির অনুকূল। 

সমুদ্রের উপর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘূর্ণাবর্তটি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে পারে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাস এই সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বর্তমানে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বরের বা ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এরপর উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নাগাদ উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হয়ে একটি ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকা’তৈরি করতে পারে।  এর পর আবহাওয়ার  পরিস্থিতি সঙ্গ দিলে ওই সিস্টেম ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়েরও রূপ নিতে পারে। তবে তার জন্য মাঝে অনেকগুলি ধাপ পেরতে হবে। তবে এই মুহূর্তে তা নিয়ে পূর্বাভাস করা যথাযথ নাও হতে পারে।                       

আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের পর সিস্টেমটির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব। তখন ওই    সিস্টেমটি কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পুরী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করতে পারে।

বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে  বাতাসের গতি ও দিকের তারতম্য (উইন্ড শিয়ার) মাঝারি মাত্রায় থাকবে, যা ঘূর্ণিঝড়টির আরও শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা তৈরি করতে পারে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় এটি ঘূর্ণিঝড়টির তীব্রতা বজায় রাখতে এবং দমকা হাওয়াসহ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ফলে এই পর্যায়ে ঝড়টি ঠিক কোন দিকে যাবে এবং কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ধারণে ২০-২১ সেপ্টেম্বরের পরের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *