কলকাতা: পচা খাবার বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঠান্ডা পানীয় তো রয়েছেই। দই বসানোর ঘরে ঢুকে দেখা গেল ঘুরছে সাপ! কোথাও মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠের আসবাবে ব্যবহার করার রং। নামী ব্র্যান্ডের টিনে ভরে বিক্রি হচ্ছে সস্তার তেল! পশ্চিম বর্ধমান থেকে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে হুগলি – খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে ধরা পড়ল নানা অনিয়ম।

যেখানে দই বসানো হচ্ছে, সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপ। জয়পুরে দইয়ের পাশে ঘুরছে সাপ! মিষ্টির দোকানে ভয়ঙ্কর ছবি! এখানেই শেষ নয়। খোলা দইয়ের পাত্রের পাশে পড়ে আছে রক্ত! বাঁকুড়ার জয়পুরে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে ধরা পড়ল এরকমই ছবি।

শনিবার সকাল থেকে জয়পুরে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। কোথাও ফেলে দেওয়া হয় মেয়াদ উত্তীর্ণ ঠান্ডা পানীয়। কোথাও ফেলে দেওয়া হয় পচা দই। কোথাও আবার দই বসানোর জায়গায় দেখা গেল সাপ… মাটিতে রক্তের দাগ। কীসের রক্ত, তার উত্তর দিতে পারেননি দোকানের কর্মীরা।

একই ছবি ধরা পড়েছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে। গত কয়েকদিনের মতো, এদিনও ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্ট, পুরসভা ও পুলিশ অভিযান চালায় রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে। ২টি রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় মেয়াদ উত্তীর্ণ চিকেন। মেলে নষ্ট হয়ে যাওয়া রেশমি কাবাব।

একটি রেস্তোরাঁয় রাখা ছিল, সিঙাড়ার জন্য মাখা আলু, পনির পকোড়া, দই বড়া- যেগুলি সবই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। একটি মিষ্টির দোকানে কংক্রিটের চাতালেই হচ্ছিল মিষ্টি তৈরি। যে রং ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাতে কোনও ডেট ছিল না। আর একটি মিষ্টির দোকানে ডিপ ফ্রিজে রাখা ছিল পচে যাওয়া কচুরির ডাল। শেওলা পড়ে যাওয়া কাঁচা সিঙাড়া। সেগুলি ভেঙে নষ্ট করে দেওয়া হয়। করা হয় জরিমানা। পাশাপাশি, একটি পনিরের দোকানেও হানা দেন আধিকারিকরা। সংগ্রহ করেন নমুনা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানার চাতুরিভাড়া ও পোক্তাপোল এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান ও হোটেলে অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। পোক্তাপোলের একটি রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় প্রচুর মেয়াদউত্তীর্ণ প্যাকেটজাত খাবার। চাতুরিভাড়ায় একটি মিষ্টির দোকানে দেখা যায়, মিষ্টি তৈরিতে কাঠের রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। রান্নাঘর অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর। সেখানেও নষ্ট করে দেওয়া হয় প্রচুর মিষ্টি। অনিয়ম ধরা পড়ায় কয়েকটি দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

হুগলির পুরশুড়ার একটি তেলমিলে নামী ব্র্যান্ডের টিনে ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল সস্তার তেল। প্রায় ১১ লক্ষ টাকার তেল সিজ করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। তেলের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

আরও পড়ুন: বয়স ভাঁড়িয়ে কেউ নির্বাসিত, কাউকে ছাড়! বিতর্ক বাংলার ক্রিকেটে, কী যুক্তি দিল সিএবি?

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *